ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গুইমারায় খাল পুনঃখননে কৃষিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তৈমাতাই খাল ও ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পিলাক খাল পুনঃখননের উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন প্রান্তিক জনগণ। দীর্ঘ কয়েক দশকের নাব্য সংকট, জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক দশকের অবহেলা এবং খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুইমারার ঐতিহ্যবাহী তৈমাতাই খাল ও পিলাক খাল মৃতপ্রায় খালে পরিণত হয়েছিল। ফলে নাব্য সংকটে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কমেছে কৃষি উৎপাদন এবং নষ্ট হয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তৈমাতাই খাল ও পিলাক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল দুটি পুনঃখননের ফলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, মৃতপ্রায় তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের ফলে আবারও পানির প্রবাহ সৃষ্টি হবে। উজান থেকে নেমে আসা বর্ষার পানি সহজে নিষ্কাশন হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষকরা সেচের জন্য পানি পাবেন। খালকে কেন্দ্র করে জীববৈচিত্র্যও ফিরে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গুইমারার তৈমাতাই খাল ও পিলাক খাল খনন কাজ বাস্তবায়ন করছে।

সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্মল নারায়ণ ত্রিপুরা গুইমারার ঐতিহ্যবাহী পিলাক খাল ও তৈমাতাই খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই খাল পুনঃখনন প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় গুইমারার ঐতিহ্যবাহী পিলাক খাল ও তৈমাতাই খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তৈমাতাই খাল ও ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পিলাক খাল খননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, যে খালটি ভরাট হয়ে নাব্য সংকটে হারিয়ে যেতে বসেছিল, বর্তমানে তা আবার এলাকার পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। খাল খনন শেষে দুই পাড়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল তামান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিলাক খাল ও তৈমাতাই খাল খনন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এ দুটি খাল খননের মাধ্যমে দুর্গম জনপদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অবসান হবে। চাষের আওতায় আসবে কৃষিজমি। কৃষি উৎপাদনে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

আগামী ২০ মে তৈমাতাই খাল ও পিলাক খাল খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে গুইমারা উপজেলা প্রশাসন। এমনটাই জানিয়েছেন ইউএনও মিশকাতুল তামান্না।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।