ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি ও বিটিসিএলের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
পৈতৃক সম্পত্তি ও বিটিসিএলের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৈধ মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ঘর ভাঙচুর, সাইনবোর্ড নষ্ট, সীমানা পিলার উপড়ে ফেলা এবং রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে কটিয়াদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী চাঁন মিয়া।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে কটিয়াদী টেলিফোন ভবন অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চাঁন মিয়া বলেন, তিনি কটিয়াদী উপজেলার ভোগপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাফিজের ছেলে। কটিয়াদী পৌর এলাকার কটিয়াদী মৌজার আরএস দাগ নম্বর ৫১৩-এর ৩ শতাংশ জমি তিনি ও তার ভাইয়েরা ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি তাদের পিতার নামে সাফ-কাবলা দলিল ও আরএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরে তাদের নামে নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে চাঁন মিয়ার অভিযোগ, কটিয়াদী পৌরসভার বাগরাইট হালুয়াপাড়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে কবির মোল্লা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি অবৈধভাবে দখল করেছেন। কবির মোল্লা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে বাচ্চু, শহীদ, শামীম, পাভেলসহ কয়েকজন ব্যক্তি গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সংঘবদ্ধভাবে তার জমিতে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে থাকা একটি ঘর ভেঙে ফেলেন, সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেন এবং সীমানা পিলার উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁন মিয়া জানান, ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তিনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে কটিয়াদী টিঅ্যান্ডটি অফিসের সামনে তাকে দেখতে পেয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করতে উদ্যত হয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তিনি কটিয়াদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কিন্তু এরপরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন গভীর রাতেই তারা জমিতে বালু ভরাট করে জোরপূর্বক দখল নেয় এবং ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে। চাঁন মিয়ার দাবি, সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এখন তাকে ওই জমিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বরং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

এদিকে জানা গেছে, চাঁন মিয়ার জমি দখল করতে গিয়ে অভিযুক্তরা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর কটিয়াদী টেলিফোন ভবনের কিছু জায়গাও দখল করে নিয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিটিসিএল কটিয়াদী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, চাঁন মিয়ার জমি দখলের সময় সরকারি সম্পত্তি টেলিফোন ভবনের কিছু জায়গাও দখল করা হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রায় এক সপ্তাহ আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদের জন্য লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পাভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত না।

মূল অভিযুক্ত কবির মোল্লা প্রবাসে থাকায় কথা হয় তার ম্যানেজার হানিফ মিয়ার সাথে। তিনি জানান, কাগজপত্র ঠিক আছে। কাগজপত্র না থাকলে কি আমার মালিক দোকান নির্মাণ করছেন? রাতের আঁধারে অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কেন দোকান নির্মাণ করেছে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি হানিফ।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাণনাশের আশঙ্কা নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।