কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এক ব্যক্তিকে হত্যা ও আরেকজনকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, লিভার, হ্যান্ডেলসহ বিভিন্ন আলামত এবং একটি মাছবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন ভোরে উপজেলার ডাহরা তালিমুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ এবং অপর একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহত ব্যক্তিকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার রাতে হোসেনপুর-গফরগাঁও সড়কের একটি সেতুর পশ্চিম পাশে ধীরগতিতে চলা মাছবোঝাই একটি ট্রাকে উঠে তিন ব্যক্তি মাছ চুরির চেষ্টা করে। এ সময় ট্রাকের লাইনম্যান ও সহযোগীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে ট্রাকে থাকা লোহার হ্যান্ডেল, হুইল রেঞ্চ, ভারী লিভার ও লোহার পাইপ দিয়ে দুই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে রনি মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আসিফ গুরুতর আহত হন। অপর ব্যক্তি ইউসুফ কৌশলে ট্রাক থেকে নেমে পালিয়ে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খালিদ শেখ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেনপুর থানা পুলিশের একটি দল এবং নাটোরের গুরুদাসপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে শনাক্ত তিন আসামি আজাদুল ইসলাম (২০), সৌরভ (১৯) ও সরজিৎ কুমারকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা তিনজনই নাটোরের গুরুদাসপুর থানার বাসিন্দা। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর বীরবাজার এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রো-১২-৬৭৬১ নম্বরের একটি মাছবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, লিভার ও হ্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
হোসেনপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

