× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:১৮ এএম

শীতের তীব্রতায় স্থবির কুড়িগ্রামের জনজীবন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:১৮ এএম

ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ।  ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে কাঁপছে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম। তাপমাত্রা নিম্নগামী হয়ে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সন্ধ্যার পর নামছে ঘন কুয়াশা। সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া অফিস।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘোড়ার গাড়িচালক আপেল মিয়া বলেন, ‘ঠান্ডা এত বেশি যে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বের হয়ে শরীর শীতল হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপছে। ঠান্ডায় ঘোড়াও চলতে পারছে না। এমন ঠান্ডা আর দেখিনি।’

ঘন কুয়াশার কারণে যাত্রাপুর-চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌপথে চলাচলকারী নৌযানগুলো সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের কষ্ট যেন সীমা ছাড়িয়েছে। জীবিকায় টান পড়েছে নৌকা শ্রমিকদের।

যাত্রাপুরের ব্রহ্মপুত্রের ঘাটের নৌকা শ্রমিক আকবর মোল্লা বলেন, ঠান্ডায় যাত্রী নেই বললেই চলে। দু-একটা যাত্রী মিললেও ঘনকুয়াশায় পথ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নৌকা ছাড়তে দেরি হচ্ছে। এতে করে ইনকামও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের দিনমজুর আজিজার রহমান বলেন, এই সময়ে কাজকাম খুবই সীমিত। সকাল সকাল কাজে না গেলে কাজ জোটা মুশকিল হয়। কিন্তু ভোরে কাজে বের হতে শরীর কাঁপে, হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কিন্তু কাজ না করলে চুলায় হাড়ি ওঠে না। এই শীতে এখন পর্যন্ত একটা কম্বলও জুটল না।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়লেও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়নি।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ বলেন, শীতে শিশুদের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। কুয়াশার মধ্যে শিশুদের বাইরে বের করা উচিত নয়। অনেক গ্রামে ঘরের ভেতরে খড় জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়া হয়, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুদের অবশ্যই গরম কাপড় পরিয়ে নিরাপদে রাখতে হবে।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এ রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।

শীতের এই তীব্রতায় কুড়িগ্রামের শীতার্ত মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে সরকারি-বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!