ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কুড়িগ্রামে শীতের দাপটে বিপর্যস্ত নিম্ন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন। ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও হিমশীতল বাতাসের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও দরিদ্র আয়ের মানুষ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডায় কাঁপুনি অব্যাহত থাকছে। সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না।

রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিক মিয়া বলেন, শীতের কারণে সকালে রিকশা নিয়ে বের হতে পারিনি। আয় কমে যাওয়ায় সংসারে অভাব লেগেই আছে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করা যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।

একই উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া বলেন, তিনি বিল ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু শীতের কারণে কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছেন না। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডায় তার ছেলের ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জেলার নয়টি উপজেলায় আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় মোট ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।