ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার নামজারি ও খারিজ সংক্রান্ত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

একটি নামজারির আবেদন করার পর ঘুষ না দেওয়ায় তিনি আবেদনটি নামঞ্জুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং বলেন, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিলে আবেদনটি সম্পন্ন করে দেওয়া হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি নামজারি সম্পন্ন করেন। তবে একটি মূল দলিল নিজের কাছে রেখে দেন।

এর আগে অভিযোগকারীর মায়ের একটি জমির নামজারি করতে তিনি ৬ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিন ঘোরানোর পর কাজটি সম্পন্ন হয়।

এছাড়া ওই জমির খাজনা ২০২১ সাল পর্যন্ত পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও তিনি ৩৫ বছরের বকেয়া দেখিয়ে দাখিলা প্রদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের কলরেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংরক্ষিত রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বিভিন্ন সময় হয়রানি ও খারাপ আচরণ করেন এবং টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না।

ভূমি সেবা গ্রহণে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করা হোক।

এ বিষয়ে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বলেন, অভিযোগকারী আমার জামাই। আমি কি তার কাছে টাকা চাইতে পারি? তাদের এসব দাবি মিথ্যা।

তবে জমির খাজনা ২০২১ সাল পর্যন্ত পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও ৩৫ বছরের বকেয়া দেখিয়ে দাখিলা কীভাবে আদায় করলেন এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগটি দেখে আপনাকে জানাবো।