ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

২৫ বছরের জমানো সঞ্চয়ে সেতু, বদলে গেল জনপদ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয় আর মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের অদম্য ইচ্ছাশক্তি-এই দুইয়ের সমন্বয়ে কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্মিত হয়েছে একটি কাঠের সেতু। আর এই মানবিক উদ্যোগের নায়ক আব্দুল করিম (৪৫), যিনি এখন এলাকাজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন।

উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জোনাইডাঙ্গা এলাকায় নির্মিত এই কাঠের সেতুটি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এলাকাবাসীর সম্মানে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘আব্দুল করিম সেতু’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর একমাত্র যাতায়াতের পথ ছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জোনাইডাঙ্গা, ভদ্রপাড়া, কাঠাখালীসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী প্রতিদিন ওই সেতু দিয়ে চলাচল করতেন। সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল প্রতিনিয়ত, যা এলাকাবাসীর জন্য হয়ে উঠেছিল চরম দুর্ভোগের কারণ।

এই দুর্ভোগ চোখে পড়ে আব্দুল করিমের। পেশায় ভ্যানচালক- কখনো দারোয়ান, কখনো কুলি- এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করা এই মানুষটি ধীরে ধীরে সঞ্চয় করেন তার উপার্জনের একটি অংশ। অবশেষে প্রায় দেড় লাখ টাকা জমিয়ে শুরু করেন সেতু নির্মাণের কাজ। পরে অর্থের ঘাটতি পূরণে নিজের শখের মোটরসাইকেল, ছাগলসহ ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করেও তিনি কাজটি সম্পন্ন করেন।

আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিদিন দেখতাম মানুষ কত কষ্ট করে রেলের সেতু দিয়ে চলাচল করছে, অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। জনপ্রতিনিধিরা এলেও কেউ উদ্যোগ নেননি। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার চেষ্টা করেছি।’

এলাকাবাসী এনামুল, বাবলু ও আজিজুলসহ অনেকেই জানান, আগে এই পথে চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতু নির্মাণের ফলে এখন যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবীদের জন্য এটি এক বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সমাজে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি থাকলেও সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসেননি কেউ। সেখানে একজন দিনমজুর হয়েও আব্দুল করিম যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।