কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তুলা চাষ এবার ফলনে সন্তোষজনক হলেও দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা। তুলা দেশের অন্যতম চাহিদা নির্ভর অর্থকরী ফসল, আর দৌলতপুরের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলের তুলার আঁশের গুণমান ভালো হওয়ায় স্থানীয় তুলার চাহিদাও বেশি।
চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে প্রায় ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তুলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের রুপালি-১, হোয়াইট গোল্ড-১ ও হোয়াইট গোল্ড-২ রয়েছে। প্রতি বিঘা তুলা চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ১০–১২ মণ। তবে এ বছর প্রতি মণ তুলার দাম ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় কম। দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষুব্ধ।
দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের চাষি মোস্তাক আহমেদ বলেন, এ বছর সার ও কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বীজ বপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত সবধরণের খরচ বেড়ে গেছে। প্রতি বিঘায় তুলা সংগ্রহে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা চাষে খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
অপর তুলা চাষি নাহারুল ইসলাম জানান, তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল, ৭–৮ মাস সময় লাগে ফলন পেতে। এবার বিঘাপ্রতি ১৫–১৬ মণ ফলনের সম্ভাবনা আছে। গত বছর প্রতি মণ ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি, এবার মিলাররা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা দরে নির্ধারণ করেছে। আমরা চাই তুলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হোক।
আলমদিনা জিনিং মিলের কর্মকর্তা মো. ইমন হাসান জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া ও দৌলতপুর অঞ্চলের তুলার আঁশের মান ভালো হওয়ায় চাহিদা বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা তুলার দাম নির্ধারণ ও তুলা ক্রয় করেন। প্রতি কেজি তুলার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৯৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ৩ হাজর ৮৪০ টাকা। হাটে বস্তাভর্তি তুলার আর্দ্রতা পরীক্ষা করে তুলা ক্রয় করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ আল মামুন জানান, জেলার দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারায় তুলার চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৪৫০ হেক্টরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে।
জেলার ২ হাজার ৫০ জন তুলা চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে দৌলতপুরেই চাষির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জোনে এবছর প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তুলা উন্নয়ন বিভাগ চাষিদের প্রশিক্ষণ, বীজ নির্ধারণ, বীজতলা রোগমুক্ত রাখা ও সার্বিক কারিগরি পরামর্শ ও প্রণোদনা দিয়ে থাকে। আগামীতে কুষ্টিয়া জোনে চাষিদের জন্য প্রণোদনা আরও বাড়ানো হবে। চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে তুলাচাষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সমৃদ্ধ কৃষি সম্ভব হবে।



