লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষের সিন্ধুরমতি মেলার শেষ দিনে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মধ্যে সিঁদুর কেনা এবং পূজার্চনায় বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায় মেলায়।
এর আগে শুক্রবার (২৭ মার্চ) এই ঐতিহাসিক মেলার উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। উদ্বোধনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে ওই সিন্ধুরমতি দিঘির পাড়।
মেলার শেষ দিনে সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে মেলার মাঠে কিছুটা কাদা থাকলেও দর্শনার্থীদের উৎসাহে কোনো কমতি নেই। সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সিঁদুর কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের বিশ্বাস, সিন্ধুরমতি দিঘির পবিত্র জল স্পর্শ ও মেলা থেকে সিঁদুর কেনা পরিবারের জন্য কল্যাণকর। মেলায় হরেক রকমের মাটির খেলনা, আসবাবপত্র, ঘর সাজানোর জিনিস এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
আয়োজক কমিটি জানায়, শতবর্ষ পুরনো এই মেলাটি অত্র অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ দিনে জনস্রোত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সন্ধ্যায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান ও মেলা উৎসব।



