বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে মাদারীপুর। বর্ণিল আলোকসজ্জা, উচ্চমাত্রার শব্দযন্ত্র, ঢাকের তালে তালে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ে শহরজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শহরের অলিগলি থেকে পাড়া-মহল্লা আধুনিক লাইটিং-এর আলোয় ঝলমল করে উঠেছে, যা দেখতে গভীর রাত পর্যন্ত হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার ৬৫টি মণ্ডপসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় পূজা উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেমে উৎসবকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপগুলোতে লালনগীতি, জারি গান, কৌতুক, নৃত্য ও জাদু প্রদর্শনীর মতো বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ ২০০ বছরের পুরনো প্রথা ‘শোভাযাত্রা’ বা র্যালি এবার স্থগিত রাখা হয়েছে। মাদারীপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিদ্যুৎ কান্তি বাড়ৈ বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর শেষ দিনে বিশাল র্যালি হয়, যেখানে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবার আমরা র্যালি করছি না। উৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা এবার মণ্ডপের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যাতে দর্শনার্থীরা নিরাপদে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
এদিকে উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পূজাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রবিবার বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনদিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

