আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের একাধিক নেতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, একটি কুচক্রী মহল ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করে যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী মো. টিটু আলমকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করে মানহানিকর পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে ‘মৌলভীবাজার পৌরবাসী’ নামে একটি পেজসহ একাধিক আইডি থেকে এই অপপ্রচার চালানো হয়।
টিটু আলম জানান, সম্প্রতি শহরের চৌমুহনা এলাকায় একটি শিশুর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সেটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
একই সঙ্গে তার সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড ও ভিডিও তৈরি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুর বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
জিডিতে আরও বলা হয়, টিটু আলম মৌলভীবাজার পৌরসভার কাছ থেকে আইনসঙ্গতভাবে বাজার ইজারা গ্রহণ করেছেন এবং এ-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের কারণে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
একই দিনে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাফেজ আহমদ মাহফুজ সদর থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে খোলা একটি ফেসবুক পেজ ও ভুয়া আইডি থেকে তাকে এবং আরও কয়েকজন যুবদল নেতাকে চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে পোস্ট করা হয়েছে।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শিপন এবং সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শিবলুও অপপ্রচারের লক্ষ্য হয়েছেন।
চৌমুহনা এলাকার শিশুর বক্তব্য এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা জানান, ভিডিও ও পোস্টের বিষয়বস্তুর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে সামাজিকভাবে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসার পরও একটি ঈর্ষান্বিত মহল তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে।
দুই জিডিতেই বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি ও পেজের অ্যাডমিন ও মডারেটরদের শনাক্ত করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


