জাতীয় নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এবার আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন। আড়ালে চলছে অনেক দৌড়ঝাঁপ ও তদবির। প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে হিসাব-নিকাশ।
জানা যায়, রাজনৈতিকভাবে বিএনপি একটি বড় দল। তাই প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। সামাজিক মাধ্যম ও দলীয় নেতৃবৃন্দের আলোচনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজন নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মৌলভীবাজার থেকে কে হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী এমপি– এটি নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তাদের নাম উল্লেখ করে ‘নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই’ লিখে ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছে কর্মী-সমর্থকরা।
মৌলভীবাজার থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন রেজিনা নাসের। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্রবধূ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি এম নাসের রহমানের স্ত্রী। ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতিও।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট সদর ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নির্বাচন করেন এম সাইফুর রহমান। সে সময় বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক হয় রেজিনার। এরপরই বিএনপির প্রার্থী শ্বশুরের পক্ষে নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েন। বাড়ি-বাড়ি ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে উঠান বৈঠকে যোগ দেন। নিয়মিত অংশ নেন নির্বাচনি সভা-সমাবেশেও। ছিলেন নির্বাচনি এলাকার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বেও। স্বামী নাসের রহমান কারাগারে থাকলেও ভোটের মাঠে তার অভাব বুঝতে দেননি রেজিনা। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী শ্বশুরের নির্বাচনি প্রচারে পরিবারের পক্ষ থেকে একাই ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে তিনি সক্রিয়। কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তার। মিডিয়া ও নীতি-নির্ধারণী পরিসরেও পরিচিত মুখ। জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সাংগঠনিক সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তার পক্ষে তৃণমূলের একাংশ সরব। দলীয় নেতৃবৃন্দ সামাজিক মাধ্যমে তাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি চেয়ে পোস্ট করছেন। এবার প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন মৌলভীবাজারের সাবেক এমপি খালেদা রব্বানী। তিনি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক। দলের দুর্দিনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে ওনার বড় মেয়ে শেগুফতা রব্বানীর নাম আসছে। বর্তমানে নারী সংসদ সদস্যের প্রার্থীদের মধ্যে তিনিও বেশ আলোচনায় রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তাকে দেখতে চান অনেকেই। এবার তাকে নারী সংসদ সদস্য দেখতে চেয়ে ফেসবুকে চলছে সরব প্রচার।
মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, দলের দুর্দিনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। দল চাইলে বিবেচনায় থাকতে পারেন তিনি। কেউ সংগঠনের পুরোনো মুখ। কেউ নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। কেউ পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারক। কেউ আবার আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত কর্মী। মোটামুটি কয়েকজন নেত্রীর নাম রয়েছে আলোচনায়।
রেজিনা নাসের বলেন, আমি তো একটা রাজনৈতিক পরিবারের সাথে যুক্ত। আর সাইফুর রহমান সাহেব দেশের জন্য কি করেছেন সবাই জানেন। উনার প্রত্যেকটা কাজ আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনেক কিছু শিখেছি উনার থেকে। তৃণমূলসহ সব স্তরের নেতৃবৃন্দ আমাকে পছন্দ করেন। শ্বশুর এম সাইফুর রহমানের সুনাম কাজে লাগিয়ে সিলেট বিভাগের মতো কনজারভেটিভ এলাকায় বিএনপির মতো জনপ্রিয় সংগঠনে নারীদের জাগরণ ঘটিয়ে বিশাল দুর্গ গড়ে তুলে তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।
শেগুফতা রব্বানী বলেন, ছোটবেলা থেকে আমি রাজনীতি পরিবারের সঙ্গে বড় হয়েছি। আমার মা দলের দুর্দিনে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন আমার মা। জেল-জুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। আমার মা অনেক অসুস্থ ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। এখন আমি চাই আমার মায়ের জায়গা ধরে রাখতে। আমি দলের কাছে দাবি করব, এ আসনটির উন্নয়ন করতে দল আমাকে সুযোগ দিলে আমি এই জেলাকে উন্নত জেলা করে তুলব। তবে এ বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে শেষ কথা।
দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন। তবে সিলেট বিভাগ থেকে দুজন এমপি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন