মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে নদীর তীর ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কাটার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এতে পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উত্তর পাশে মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। তবে রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি অন্য স্থান থেকে সংগ্রহ না করে নদীর পাড় থেকেই মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এতে করে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের সিঁড়িঘাটটি এলাকাবাসীর দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষ ও শিশুরা এই ঘাট ব্যবহার করে গোসলসহ বিভিন্ন কাজ করেন। পাশাপাশি কৃষকরাও এই ঘাট দিয়ে কৃষিপণ্য ওঠানামা করেন। কিন্তু ঘাটের সামনের অংশ থেকে মাটি কেটে নিলে এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, রাস্তা নির্মাণে আমাদের আপত্তি নেই। তবে নদীর পাড় কেটে নয়, অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে রাস্তা করা উচিত। এভাবে কাজ করলে আশ্রয়ণ প্রকল্প নদীতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য নির্মিত একটি ঘরও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
কৃষক রূপ মিয়া ও মুহাসিন বলেন, আমরা এই ঘাট দিয়ে ধানসহ কৃষিপণ্য পরিবহন করি। এখন যদি এখানে মাটি কাটা হয়, তাহলে আমাদের জন্য বড় সমস্যা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী আলী হোসেন (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, আমার ব্যক্তিগত জমি না জানিয়েই কেটে ফেলা হয়েছে এবং গাছও নষ্ট করা হয়েছে। আমি বাধা দিলে বলা হয় নদী সরকারি সম্পত্তি, সেখান থেকে মাটি নেওয়া যাবে। কিন্তু এতে আমার জমিও ঝুঁকিতে পড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে মোতালেব মিয়া জানান, নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার নির্দেশ আমরা দেইনি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ভেকু চালক ভুল করে মাটি কেটেছে। আমরা জায়গাটি ঠিক করে অন্য স্থান থেকে মাটি এনে কাজ সম্পন্ন করবো।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মাটি কাটা বন্ধ করে নিরাপদ উপায়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।


