অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, আপনি যদি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে হয়ে থাকেন তাহলে ‘হ্যাঁ,’ বিপক্ষে হলে ‘না’। কারণ এর প্রত্যেকটি সুপারিশ জুলাই অভ্যুত্থানকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য। আপনি যদি এতে ‘না’ করেন তাহলে জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ।
তিনি বলেন, আমরা যদি শহীদদের জীবনের বিনিময়ে কিছু দিতে চাই, আমাদের সামনে আর কোনো অপশন নেই; এতে নিরপেক্ষও থাকা যাবে না, ‘না’ও করা যাবে না। অনেকেই বলতে পারে এখানে আমি ভোট দিচ্ছি, আমি চাইলেই বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারি। আপনি অবশ্যই পারেন। কিন্তু এর দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হবে আপনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারসংক্রান্ত এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, প্রফেসর ড. ইউনুসের সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা হাতে নেন। এ সময় বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিশন ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। কারণ মূল ব্যাধিটাই সংবিধানের ভেতরে। সুতরাং এই সংবিধান সংস্কার না করা পর্যন্ত যতই আমরা আন্দোলন করতে থাকি কোনো লাভ হবে না।
মনির হায়দার বলেন, সবগুলো কমিশন থেকে প্রায় এক হাজারের মতো সুপারিশ এসেছিল, যার মধ্য থেকে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮৪টি সুপারিশ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার প্রথম পদক্ষেপ হবে একটা গণভোট করা।
তিনি বলেন, অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে, গণভোটে মোট কয়টি প্রশ্ন এসেছে। কেউ বলে ১টি, কেউ বলে ৪টি, কেউ বলে ৪৮টি। জুলাই চার্টারের মোট সুপারিশ ৮৪টি। এর মধ্যে সংবিধানবিষয়ক সুপারিশ ৪৮টি। এই ৪৮টি সুপারিশকে ৪ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে, যেগুলো ব্যালটে থাকবে। এখানে ৪টি ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ; কিন্তু প্রশ্ন ১টিই।
অনেকে বলতে পারে এখানে আমি ভোট দিচ্ছি, আমি চাইলেই বিরুদ্ধে অবস্থান করতে পারি। আপনি অবশ্যই পারেন। কিন্তু এর দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হবে আপনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।
মনির হায়দার বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের সম্মান জানাতে সকলের উচিৎ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলা। ন্যায়ের সমাজ এবং একটি ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই জুলাই সনদ, গণভোট। আপনার সন্তান, আপনার পরবর্তী বংশধরের জন্য হলেও গণভোটে ‘হ্যা’-এর পক্ষে রায় দিন। গণভোট নিয়ে চরম মাত্রায় গুজব ছড়াচ্ছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের দোসররা। রাষ্ট্রের স্বার্থেই সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন। গণভোটে হ্যা দেওয়া পবিত্র দ্বায়িত্ব। যার যার অবস্থান থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে বুঝাতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার না চালাতে ইলেকশন কমিশনের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মনির হায়দার বলেন, একটা ভুল হয়েছে, রোববার হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। এটি সংশোধন না হলে ডিসি, এসপিসহ প্রশাসনের যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন সবাইকে জেলে যেতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. মাছুমা হাবিবের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানসহ প্রমুখ।

