ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে সারাদেশে সৃষ্ট অস্থিরতার অংশ হিসেবে ঈশ্বরগঞ্জের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে তেল নেই। তবে পৌর শহরের ঈশ্বরগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে সীমিত মজুদ থাকায় সেখানে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
সরেজমিনে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার এবং আঠারোবাড়ি ইউনিয়নের তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই পাম্পগুলোর সামনে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিন্তু অধিকাংশ পাম্প কর্তৃপক্ষ সরবরাহ নেই জানিয়ে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে।
পৌর এলাকায় অবস্থিত ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশনের কর্ণধার মঞ্জু ভূঁইয়া জানান, ‘তার পাম্পে বর্তমানে ৫ হাজার লিটার ডিজেল অবশিষ্ট আছে। তবে অকটেন ও পেট্রোল পুরোপুরি শেষ হওয়ায় আজ সকাল থেকে তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘অকটেন ও পেট্রোল দেওয়া আপাতত বন্ধ আছে। পরবর্তী সরবরাহ আসলে আবারও গ্রাহকদের তেল দেওয়া সম্ভব হবে।’
অন্যদিকে, কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে ঈশ্বরগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে। সেখানে এখনো দুই দিনের তেল মজুদ আছে এবং নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে উপজেলার অন্যান্য পাম্প বন্ধ থাকায় এই পাম্পটিতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
পৌরসভার বাসিন্দা ও মোটরসাইকেল চালক শামীম হোসেন বলেন, ‘ওই পাম্পে অকটেন না পেয়ে এদিকে আসলাম। শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে এসে লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়াতে হলো। তেল না পেলে কাল থেকে কাজে বের হওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।’
জ্বালানি সংকটের সুযোগে কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করার কথা জানানো হয়েছে। মজুতদারি বা অতিরিক্ত দাম রাখার প্রমাণ পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের মতো ঈশ্বরগঞ্জেও জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারি হস্তক্ষেপ ও সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



