× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

চলন্ত ট্রেনে নারীর বাচ্চা প্রসব, ছাত্রদল নেতা-পুলিশের সহায়তায় রক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

ট্রেনে বাচ্চা প্রসব। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ট্রেনে বাচ্চা প্রসব। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে চলন্ত ট্রেনে শারমীন আক্তার (২৪) নামে ভাসমান এক নারী ছেলে সন্তান প্রসব করেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে সন্তান প্রসব করার ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বাচ্চা প্রসবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল আসে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী আছে আছে। তিনি প্রসব ব্যথায় ভোগছেন। সাথে সাথে আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করি। একই সাথে সয়মনসিংহ ফায়ার ফায়ার সার্ভিসও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হয়। 

এদিকে, ট্রেন ময়মনসিংহ স্টেশনে প্রবেশের কিছুক্ষণ আগে সন্তান প্রসব করে এবং ট্রেনটি স্টেশনে দাড়ায়। পরে অপর দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বেন্সে তুলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সব শেষ খবর পাওযা পর্যন্ত নবজাতক ও মা ভাল আছে বলেও জানান তিনি।

স্টেশনের একটি সুত্র জানায়, ওই নারী কমলাপুর স্টেশন থেকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেন। নারীর সাথে ৪ বছর বয়সি এক সন্তান ছিল। ট্রেন গফরগাঁও স্টেশন ছেড়ে আসলে ওই নারীর তীব্র প্রসব ব্যথা ওঠে। পরে ওই ট্রেনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও একই হলের ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য সোলায়মান হোসাইন রবি ওই নারীকে সার্বিক সহায়তা দিয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টোশন পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

ছাত্রনেতা সোলায়মান হোসাইন রবি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-মোহনগঞ্জগামী হাওড় এক্সপ্রেসের ‘ট’ বগিতে তীব্র প্রসব বেদনায় একজন প্রসূতি বোন কাতরাতে থাকে। ওই সময় তার পাশে কেউ না থাকায় বগি থেকে মহিলাদের ডেকে আনি এবং ডেলিভারি সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার তীব্র বেদনা শেষে ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনে আসতেই ফুটফুটে ছেলে নবজাতকের জন্ম দেন। ওই সময় পুরো স্টেশনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

এর আগে গফরগাঁও স্টেশন থেকে ছেড়ে আসতেই ওই নারীর তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চাই। আসরা স্টেশনে প্রবেশের আগেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রস্তুত ছিল। এদিকে আমরা ট্রেন স্টেশনে প্রবেশের আগেই ওই নারী সন্তান প্রসব করে। পরে দুই নারীর সহায়তায় অ্যাম্বুল্যান্সে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসা শেষে ভোর ৬টার দিকে বাচ্চাসহ তার স্বামীকে নিয়ে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, ওই নারী কমলাপুর স্টেশনে ভিক্ষা করতেন এবং সেখানেই রাত কাটাতেন। আনুমানিক ৭ মাস আগে নারীর স্বামীর সাথে সম্পর্কের অবনতি হওযায় তাকে ছেড়ে যায়। এরপর থেকে তার স্বামী সাগরের সাথে ওই নারীর কোনো যোগাযোগ ছিল না। স্বামী সাগর ট্রেনে হকারি করেন। 

ঘটনাটি কাকতালীয় হলেও সত্য যে, একই ট্রেনে ছিলেন ওই নারীর স্বামী সাগর। সাগর তার ৪ বছরের মেয়েকে দেখে চিনে ফেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে সে এখানে কীভাবে আসল। পরে মেয়েটি তার বাবাকে বিস্তারিত বলে। পরে নারীর স্বামী সাগর ছাত্রনেতা সোলায়মান হোসাইন রবিনের সাথেই ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ওই নারী ও স্বামী সাগরের বাড়ি কোথায় স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি। তবে এতটুকু বলেছেন যে, জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মামাশ্বশুরের বাসায় নিয়ে যাবেন এবং তাদের বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। তাদের কোনো মোবাইল নেই, যে কারণে মোবাইল নম্বর রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তির স্লিপে ঠিকানা লিখা হয়েছে তার বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইফুল ইসলাম বলেন, রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কল পেয়ে সাথে থেকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যায়। তবে, ওই নারী ট্রেনেই বাচ্চা প্রসব করেন। পরে দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দেই এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আমরা চলে আসি। শুনেছি বাচ্চা ও মা দুজনই ভালো আছেন।

Link copied!