অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত স্থাপনা অপসারণে নোটিশ টাঙিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর সোমবার দুপুরে এসব স্থাপনা পরিদর্শন শেষে প্রশাসক নোটিশ টাঙানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের নেতারা।
মসিকের তথ্যমতে, এর আগে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে অবৈধ নির্মাণ অপসারণ এবং পার্কিং স্থান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ভবনমালিকরা তা অমান্য করায় এবার সরাসরি ভবনের সামনে নোটিশ টাঙানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, নগরের নতুন বাজার এলাকার টপটেন ভবন ২০১৪ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ পৌরসভা থেকে বেইজমেন্টসহ ১১ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পার্কিংয়ের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করে তা বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা অনুমোদিত নকশার পরিপন্থী।
এ ছাড়া নগরের চরপাড়া এলাকার মাকরজানি খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত বেসরকারি ইউনিয়ন হাসপাতালের একটি অংশ খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। পরিদর্শনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাত দিনের মধ্যে খালের ওপর থাকা অংশ অপসারণের নির্দেশ দেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এতে সিটি করপোরেশনের কঠোরতা মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সহায়ক হবে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকন উজ্জামান সরকার বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নোটিশের পরও নির্দেশনা না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবনের অবৈধ অতিরিক্ত অংশ ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হবে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন হাসপাতাল, গার্ডেন সিটি ও ইউনাইটেড গার্ডেন বিল্ডার্সের দুটি ভবনসহ মোট চারটি স্থাপনার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস বলেন, এর আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়। তাই প্রশাসকের নির্দেশে এবার সরাসরি নোটিশ টাঙানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

