ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লরি থেকে অবৈধ উপায়ে জ্বালানি বিক্রি, গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অবৈধভাবে বিক্রির সময় ২২০০ লিটার জ্বালানিসহ ট্যাংক লরি জব্দ করেছে পুলিশ। একই সাথে ক্রেতা ট্যাংকের চালক-সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জ্বালানি ক্রেতা ফুলবাড়িয়ার উসমান আলী, সিরাজগঞ্জ জেলার লরির চালক সোহেল রানা (৪০) ও চালকের সহকারী হৃদয় আহমেদ (২৩)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে ফুলবাড়িয়া থানার এসআই শামীম হোসেন বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের নামে ও অজ্ঞাতনাম ২/৩ জনকে আসামি করেন মামলা দায়ের করেন।

এসআই শামীম হোসেন বলেন, বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জের হাটখালি বাজার এলাকায় লরি থেকে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে সাথে সাথে ওই বাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিষয়টি টের বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ সময় ২২০০ লিটার জ্বালানিসহ গাড়িটি জব্দ এবং স্থানীয় উসমান আলী, লরির চালক ও সহকারীকে লরিতে আটক করা হয়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় চালক ও সহকারী জানায়, তারা সিরাজগঞ্জ থেকে জ্বালানি মুক্তাগাছার সেভেন স্টার ফিলিং স্টেশনে দেওয়ার জন্য এসেছিল। সেখানে জ্বালানি ফিলিং স্টেশনে না দিয়ে অবৈধভাবে ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জের হাটখালি বাজারের উসমান মিয়ার কাছে অবৈধভাবে বিক্রি করছিলেন।

এসআই শামীম আরও জানান, গ্রেপ্তার চালক ও সহকারীর কাছ থেকে জ্বালানির একটি স্লিপ পাওয়া গেছে। ওই স্লিপে সেভেন স্টার ফিলিং স্টেশন নাম উল্লেখ করা আছে। তবে, ফিলিং স্টেশনের কোনো ঠিকানা দেওয়া ছিল না। মুক্তাগাছার সত্রাশিয়া বাজারে সেভেন স্টার ফিলিং স্টেশন আছে। তবে, এ ঘটনার সাথে ওই ফিলিং স্টেশনের কোনো যোগসুত্র আছে কি না জানা নেই।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ হাটখালি বাজারে সোহেল মিয়া খুচরা জ্বালানি বিক্রি করেন। তার সরকারি এনওসি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন পাম্পের সাথে যোগসাজস করে রাতের আঁধারে অধিক দামে জ্বালানি বিক্রি করেন। তবে, দিনের বেলায় তিনি দোকান বন্ধ রাখেন। ২২০০ লিটার জ্বালানি জব্দের সাথে তার সম্পৃক্তা রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল মিয়া বলেন, আমার এনওসি আছে এবং ৩০০ লিটার জ্বালানি মজুত করে বিক্রির অনুমোদন আছে। তবে, এই সঙ্কট মুহৃর্তে জ্বালানি না পেয়ে আমার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি।

এসআই শামীম হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়েছি। তাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছি। এই ঘটনার আরও বেশ কয়েকজন জড়িত। যারা ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে। তদন্ত করে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। আসামিদের আদালতে তোলা হলে বিচারক রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।