ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত বন্ধ জুটমিল চালু করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
তিনি বলেন, অচিরেই মিলটি চালু করে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং এতে প্রায় ৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেল ৪টায় মহান মে দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে চত্বরে জেলা শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এমপি ওয়াহাব আরও বলেন, বন্ধ জুটমিল চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ দাবি বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকবান্ধব নেতৃত্ব এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মোহনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি একটি শ্রমিকবান্ধব দল। সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু করতে সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে শ্রমিক সমাজ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে শ্রমিক পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, কোনো শ্রমিক যদি দিনে ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ ঘণ্টা কাজ করেন, তবে তিনি ২ ঘণ্টার ওভারটাইম মজুরি পাবেন। এ নীতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে জেলা শ্রমিক দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে মামলা-হামলার শিকার ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে মহান মে দিবস উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসন, ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ জুট মিলস লিমিটেড একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, যা শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত। প্রায় ৪৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ মিলটিতে একসময় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন