ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাবার খনন করা খাল ৪৭ বছর পর পুনঃখনন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

১৯৭৯ সালে বাবার খনন করা দরিরামপুর ধরার খাল ৪৭ বছর পর পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিযনের দরিয়ারপুর গ্রামের ধরার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সুত্র জানায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৯৭৯ সালে ব্যক্তিগত পরিদর্শনে আসেন এবং স্থানীয় 'ধরার খাল' বা বৈলর খাল পরিমাপ ও খনন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সালের দিকে তিনি দেশব্যাপী যে ব্যাপকভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, তার অংশ হিসেবে ত্রিশালের এই খালটিও খনন করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন। পরে নজরুল একাডেমি ডাকবাংলোতে বিশ্রাম নিয়ে সাড়ে ৪টার দিকে নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে অডিটরিয়ামে জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করবেন।  

দুই দশক পর শনিবার (২৩ মে) কবির বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে সর্বত্রই উৎসবের আমেজ। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রতির অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ময়মনসিংহবাসী।

১৯১৪ সালে দারোগা রফিজ উল্লাহর হাত ধরে আসানসোল রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে আসেন কিশোর নজরুল ইসলাম। সেখানে একটি বৈঠক ঘরে বসবাস করতেন তিনি। পাশেই পুকুরে গোসল করতেন দুরন্ত নজরুল। ছুটে বেড়াতেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। 

পরে কবি নজরুলকে সপ্তম শ্রেণিতে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়ে ক্লাশ করতেন। বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় নামাপাড়া বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে লজিং পাঠানো হয়। সেখানে থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়া অবস্থায় অভিমান করে কাউকে না জানিয়ে কুমিল্লায় চলে যান নজরুল। পরে আর কোনদিন ত্রিশালে আসেননি তিনি।  

নজরুলের স্মৃতি রক্ষার্থে কাজির শিমলা দারোগা বাড়ি এবং বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে নির্মাণ করা হয় নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র। তবে স্মৃতি কেন্দ্র দুটিতে জনবল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এসব আধুনিকায়নের পাশাপাশি চলাচলের ভাঙাচূড়া রাস্তাটি মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।

রফিজউল্লাহ দারোগার নাতি কাজী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ১৯১৪ সালের জুন মাসে তার দাদা নজরুলকে গ্রামে নিয়ে এসেছিল। নজরুলের মেধা দেখে সবাইকে তার প্রতি যত্ন নিতে নির্দেশনা দিয়েছিল। নজরুল ছিল দুরন্ত প্রকৃতির। বর্ষাকালে এখান থেকে স্কুল যেতে তার কষ্ট হতো। তাই প্রায় দেড় বছর এখানে থাকার পর তাকে নামাপাড়া লজিংয়ে পাঠানো হয়। 

তিনি আরও বলেন, আজ রফিজউল্লাহ দারোগার কারণেই নজরুল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এখানে তার স্মৃতি রক্ষার্থে দুইতলা একটি স্মৃতি কেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও সেটি অনেকটা অবহেলায় রয়েছে। দেখার মত নজরুলের শোবার খাট আর কয়েকটি ছবি এবং বই রয়েছে। এখানে আসার চলাচলের রাস্তাটিও ভাঙাচূড়া। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আসছেন আমাদের দাবি থাকবে স্মৃতিকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন করাসহ রাস্তাটি মেরামতের।

নজরুল স্মৃতি কেন্দ্রের সহকারি পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ রোমেল বলেন, বিচুতিয়া বেপারির বাড়ির কেন্দ্র থেকেই দুটি স্মৃতি কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে থাকে। দুই কেন্দ্রেই শিশুদের জন্য নজরুল সংগীত প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও দুই স্মৃতিকেন্দ্রে নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দরিরামপুর স্কুলে মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা, নজরুল মেলা, বই মেলা, নাচ, গান, আবৃত্তি এবং পালা। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।