ময়মনসিংহের পৃথক স্থানে বজ্রপাত, সাপের কামড়, পানিতে ডুবে এবং ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষক খালেকুল আজাদ মুক্তাগাছা পৌর শহরের হৃদয় মোড় এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি মৃত ইসব আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গ্রামের বাড়ি রৌহারচরে ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে সড়কে হাঁটাহাঁটির সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সকালে গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন গ্রামে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল সিয়াম। সে রুকন উদ্দিনের ছেলে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে সিয়াম গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, গফরগাঁওয়ের চর আলগী ইউনিয়ন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে এসে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
ফুলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার বিকেলে দুই বান্ধবী বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে নামে। তাদের মধ্যে একজন গোসল শেষে উঠে এলেও মরিয়ম পানিতে তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ নদীতে ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মরিয়ম সিংহেশ্বর ইউনিয়নের ধনারভিটা মাইজপাড়া গ্রামের হারেজ আলীর মেয়ে। তার বয়স ৬ বছর।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ভাসমান অবস্থায় পাওয়া ওই নারী কাচিনা এলাকায় বসবাস করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। সকালে খবর পেয়ে কাচিনা এলাকা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছিল। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমেও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
গৌরীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার বিকেলে উপজেলার ভাংনামারি ইউনিয়নে তিন বন্ধু বাড়ির পাশের ব্রহ্মপুত্র নদে সাঁতার কাটতে নামে। এ সময় মোকরামিন পানিতে তলিয়ে যায়। অপর দুই বন্ধু তীরে উঠে স্থানীয়দের জানালে তারা খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মোকরামিনের বয়স ২৪ বছর। তিনি একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।


