নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ধামইরহাটে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এখনো গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাননি। প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ২৪৫টি গ্রাম, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু ভোটের আশায় উপজেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও উদ্দীপনা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের আগ্রহও তত বাড়ছে। তবে ভোট বলতে ব্যালটে সিল দেওয়াকে বুঝলেও গণভোট কী, কেন এবং কীভাবে দিতে হবে—সে বিষয়ে ধারণা নেই অধিকাংশ ভোটারের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের আর্তনাদ নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করছে। তবে এখন পর্যন্ত ধামইরহাট উপজেলায় ওই ভ্রাম্যমাণ গাড়ি পৌঁছায়নি।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় মানুষেরা কিছুটা ধারণা পেলেও মাঠপর্যায়ের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ও শ্রমজীবী ভোটাররা গণভোট সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞাতই রয়ে গেছেন।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠ সরগরম থাকলেও গণভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন কোনো আলোচনা বা আগ্রহ নেই। অধিকাংশ ভোটারই জানেন না কোন বিষয়গুলোর ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া হবে এবং কেন এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী আলতাদিঘি গ্রামের এক ভোটার বলেন, আমি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব। কিন্তু গণভোট কী এবং কেন হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছুই জানি না। একই গ্রামের আরও কয়েকজন ভোটারের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, তাদেরও গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তারা সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলে গণভোটের বিষয়টি বুঝতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধামইরহাট উপজেলায় মোট ৫৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৩২০টি ভোটকক্ষ থাকবে। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯১ জন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন