ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শিক্ষক মারধর ও অশালীন আচরণ, তদন্তের নির্দেশ মাউশির

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নড়াইলের কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের মারধর, বিদ্যালয় ফাঁকি এবং ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মহীউদ্দিন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ সাহিদুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক শেখ তকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সরেজমিনে এসে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শেখ সাহিদুর ইসলাম কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষকদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত বিশ্বাস ও চৈতালী বিশ্বাসকে মারধর করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক সাহিদুর ইসলাম।

ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিক্ষক চৈতালী বিশ্বাস শিক্ষক রুমে গিয়ে দেখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক সাহিদুর ইসলাম অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা করছেন। এক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত বিশ্বাসকে হাতুড়ি দিয়ে মারার চেষ্টা করেন সাহিদুর ইসলাম। এ সময় তার হাতে ধারালো কাস্তেও ছিল। চৈতালী বিশ্বাসসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ঠেকাতে গেলে সাহিদুর ইসলাম ভুক্তভোগী চৈতালীকে ঘুষি মারেন। ঘুষিটি চৈতালী বিশ্বাসের কলাপের ডান পাশে লেগে রক্ত জমাট হয়ে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চৈতালী বিশ্বাস কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে ২৭ অক্টোবর খুলনায় সিটিস্ক্যান করান। চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা এখনো চলছে। মাথার সমস্যা ঠিক হয়নি। ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক চৈতালী বিশ্বাস ও প্রশান্ত বিশ্বাস প্রধান শিক্ষক দীপ্তি রানী বৈরাগীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। ঘটনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচার দাবি করা হয়।

অন্যদিকে, বড় ভাই সাহিদুর ইসলাম বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ায় ছোট ভাই শেখ তকিবুর রহমান প্রায়ই ক্লাস না নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে জমি বেচাকেনা ও মাপ দেওয়ার কাজে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বাড়ি বিদ্যালয়ের সংলগ্ন কালিয়া পৌরসভার বেন্দা এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় দাপট দেখিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে তারা সবসময় বেপরোয়া আচরণ করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়টি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি ঐতিহ্য ধরে রেখেও বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার পরিবেশ ভালো নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। প্রায় ১৫ বছর আগে বিদ্যালয়ে ৭০০-৮০০ শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তি রানী বৈরাগী দাবি করেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের জন্য নয়, আশেপাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।’