নড়াইলের সদর উপজেলায় রেললাইনে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-বেনাপোল রেললাইনের নড়াইল পৌরসভা এলাকার বরাশুলা রেলসেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত পলি বেগম (২৫) ও তার ছেলে ফুরকান ভূইয়া (দেড় বছর)। নিহত পলি বেগম উপজেলার মূলদাইড় গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী এবং লোহাগড়া উপজেলার মরিচপাশা গ্রামের আলম শেখের মেয়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান দুর্ঘটনা মা ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার দুপুরের দিকে বরাশুলা এলাকায় ঢাকা-বেনাপোল রেললাইনের ওপর দিয়ে তার শিশু ফুরকানকে কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন পলি। সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ১টার দিকে নড়াইলের বরাশুলা রেলসেতুর পূর্বদিকে পৌঁছায়। ট্রেনটি দূর থেকে বারংবার হুইসেল দিয়ে গতি কমালেও রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পলি ও তার কোলের বাচ্চার গায়ে ধাক্কা লাগে। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় পলি। আর তার কোলে থাকা শিশুটি ছিটকে গিয়ে রেললাইনের পাশে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চা দোকানি রিপনের কাছে সময় জানতে চান ওই নারী। এর কিছুক্ষণ পর ট্রেন দূর থেকে হুইসেল দিলেও পলি তার সন্তানকে কোলে নিয়ে ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
নিহত পলির ফুফু শাশুড়ির দাবি, সাড়ে তিন বছর আগে পলির প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা যায়। প্রথম সন্তান জন্মদানেরর সময় অসুস্থ হয়ে সে ৬ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিল। সেই থেকেই পলির মানসিক সমস্যা শুরু হয়। শনিবার সকালে একসাথে আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে এক নারীর মরদেহ পেয়েছি। তার ছোট্ট ছেলেটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিলে তাকেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে খবর দেওয়া হয়েছে রেল পুলিশকে৷

