জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের সম্মানজনক পুনর্বাসনের জন্য আরও তহবিলের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে দেশের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে পূর্বাচলের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ স্কয়ার প্যাভিলিয়নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর হলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে যেমন গৌরবোজ্জ্বল, তেমনি এটি গভীরভাবে বেদনাবিধুর একটি অধ্যায়। এই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অবর্ণনীয় ত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাদের সম্মানজনক, নিরাপদ এবং স্বাবলম্বী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শারীরিক অক্ষমতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছেন। এসব সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন থেকেই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গঠিত এই ফাউন্ডেশন মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। তহবিল সংগ্রহ, স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এবং গবেষণা ও স্মৃতি সংরক্ষণ—এই চারটি ম্যান্ডেটকে কেন্দ্র করে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন মোট ১১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা তহবিল সংগ্রহ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮২৯টি শহীদ পরিবার পেয়েছে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার ৪৭১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পেয়েছেন ৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। তবে এখনো হাজারো আহত যোদ্ধা সহায়তার বাইরে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে ৮ হাজার ৬৪৮ জন আহত জুলাই যোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৩৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।
টেকসই পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর হলেন বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনই আহত যোদ্ধাদের প্রকৃত মুক্তির পথ। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৮২ জন আহত যোদ্ধা পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, ২০ শতাংশ চাকরি এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে ৭৪ জন আহত যোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পাঁচ জন জুলাই শহীদ সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানটি তাদের উৎসর্গ করা হয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বলেন, ‘৭১ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আর জুলাই সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করছে। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই এবং ফাউন্ডেশন সব ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কেউ যদি জুলাই যোদ্ধার নাম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার সোহেল মিয়া, গণসংযোগ ও মিডিয়া প্রধান মো. জাহিদ হোসাইন, ভেরিফিকেশন প্রধান আমানুল্লাহ সাকিব, আইটি প্রধান সাকিব হাসান এবং কল সেন্টার প্রধান মাহফুজ।



