নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় এ ঘটনা। আহতদের পক্ষে মো. শাহ জামাল সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় মাইনউদ্দিন মিয়ার ছেলে মো. শাহ জামালের সঙ্গে বাড়ি মজলিশ গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মীর কবির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি।
সোমবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. তৌফিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের চেষ্টা করেন। তবে উভয় পক্ষ কথা বলতে বাধা দিলে এসিল্যান্ড স্থান ত্যাগ করেন। এরপর বিকেলে মীর কবির হোসেনের নেতৃত্বে রফিক মিয়া, রতন মিয়া, সাগর মিয়া, রানা মিয়া, হাসমত মিয়া, তাদু, রমজান আলী, জুলহাস মিয়া ও কালাম মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্র দা, চাপাতি, হকিস্টিক, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে মো. শাহ জামালের বাড়িতে হামলা চালায়।
এই হামলায় মো. শাহ জামালের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৪৫), ছেলে সিফাত মিয়া (২৪), রাহাত হোসেন (১৯), চাচাতো ভাই মাসুদ মিয়া (৪৩), চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী টগর আক্তার (২৭) ও জুয়েল মিয়া (২৬) আহত হন। আহতদের মধ্যে জুয়েল মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী মো. শাহ জামাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে অন্য পক্ষের দখল চলছিল। হঠাৎ মীর কবির হোসেন ওই জমি নিজের দাবি করেন। পরে জমি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেন। এসিল্যান্ড চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ হামলা চালায়।
অভিযুক্ত মীর কবির হোসেন দাবি করেছেন, এসিল্যান্ডের তদন্ত চলাকালীন সময়ে রতন নামের এক যুবক তার পক্ষে কথা বলায় তাকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ হয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

