আজ শেষ হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) ৩০তম আসর। মাসব্যাপী এই আয়োজনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে জমজমাট সময় পার করেছে মেলা। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তের এই ভিড়ে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে।
সকাল থেকেই মেলার প্রবেশ গেট, মূল এক্সিবিশন হল ও বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে ছিল দর্শনার্থীর ব্যাপক চাপ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। বিক্রি বাড়াতে স্টলগুলোতে দেওয়া হয় বিশেষ মূল্যছাড়, অফার ও বোনাস প্যাকেজ। এতে ক্রেতাদের আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যবসায়ীরা জানান, কর্মদিবসগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও ছুটির দিনগুলোই তাদের মূল বিক্রির সময়।
গত ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এবারের বাণিজ্য মেলায় শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছিল ব্যবসায়। মেলা জমে উঠলেও শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও প্রচারণার কারণে দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কমে যায়। তবে শেষ শুক্রবারে সেই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, প্রত্যাশার চেয়েও ভালো বেচাকেনা হয়েছে শেষ দিনে।
এবারের মেলায় বিদেশি পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল বেশি। কাশ্মীরি শাল, পোশাক ও কার্পেট, তুর্কি মোজাইক ও ল্যাম্প, রঙিন ঘর সাজানোর সামগ্রী, বিদেশি রামেন নুডলস, ইলেকট্রনিক পণ্য ও কসমেটিকস ভালো বিক্রি হয়েছে। তবে শীতের পোশাক, বিশেষ করে ব্লেজারের দোকানগুলোতে তুলনামূলকভাবে ক্রেতার উপস্থিতি কম ছিল। অন্যদিকে গৃহস্থালি সামগ্রী ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে ভালো সাড়া মিলেছে। পাশাপাশি নাবিস্কো বিস্কুট ও ভাইয়া হাউজিংয়ের প্যাভিলিয়নগুলোতেও বিশেষ ছাড়ের কারণে ক্রেতার বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে।
আয়োজক সূত্র জানায়, আজ বিকেল ৪টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাণিজ্য উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে আজও রাত ১০টা পর্যন্ত মেলার প্রবেশ গেট খোলা থাকবে। শেষ দিনে বিনোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন