পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কর্তৃক রূপগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সিটি মিল কোম্পানির সয়াবিন তেলের ড্রামভর্তি ট্রাক ডাকাতির ঘটনার প্রায় চার বছর পর মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত এক ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতে ওই আসামি দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটি তদন্তকালে এসআই মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি সুদক্ষ আভিযানিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে রূপগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডাকাত সদস্য রনি হোসেনকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ১ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদী পংকজ কুমার সাহা (৪৬) রূপগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিনি রূপগঞ্জ থানাধীন সিটি মিল থেকে ৪৫ ড্রাম সয়াবিন তেল ও ১৫ ড্রাম সুপার পাম্প অয়েলসহ মোট ৬০ ড্রাম সিটি অয়েল (মোট ১২,২৪০ লিটার) ১৮,২০,০০০ টাকা মূল্যে ডিওর মাধ্যমে ক্রয় করেন। গত ০৮/০৯/২০২২ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে সিটি মিল থেকে চালান অনুযায়ী তার নিজস্ব ট্রাকে তেলগুলো লোড করে চালক ও হেলপারসহ এলেঙ্গার উদ্দেশে রওনা হন।
ওই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে রূপগঞ্জ থানাধীন কর্নগোপ এলাকার ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজের আনুমানিক ১৫০ গজ দক্ষিণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাস ট্রাকটির গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে ৬-৭ জন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি পুলিশের হ্যান্ডকাফসহ নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাকের কাগজপত্র দেখতে চায়।
কাগজপত্র নেওয়ার পর তারা চালক ও হেলপারকে ট্রাক থেকে নামিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে নেয়। এরপর ট্রাক ও মালামাল ডাকাতি করে নরসিংদীর দিকে চলে যায়।
পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৫টায় নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কের খালিপাড়া এলাকায় চালক ও হেলপারকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানার ওসি মামলাটি রুজু করেন।
পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই নারায়ণগঞ্জকে নির্দেশ প্রদান করেন এবং এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস গ্রেপ্তারকৃত আসামির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভাড়া করা হয়েছিল। রনি হোসেনসহ তার সহযোগীরা ওই মাইক্রোবাস ব্যবহার করেই ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত গত ০২/০২/২০২৬ তারিখে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডকালে জিজ্ঞাসাবাদে রনি হোসেন ওই ডাকাতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন