ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

সামাজিক ইফতার বন্ধে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সামাজিক সংগঠনের আয়োজিত ইফতার মাহফিল ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইফতার অনুষ্ঠান বন্ধ করতে থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুনের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের থানার একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে এসে মৌখিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পরে আয়োজকরা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বাড়িওয়ালা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সামাজিক উদ্যোগ। হঠাৎ পুলিশ এসে অনুষ্ঠান না করার কথা জানায়। পরে তারা জানতে পারেন, স্থানীয়ভাবে আপত্তি তোলা হয়েছে। তার দাবি, বিদ্যুৎ মামুনের পক্ষ থেকেই আপত্তির বিষয়টি আসে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, মিজানুর রহমান নামে একজন থানায় একটি লিখিত অভিযোগের কপি জমা দেন। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি সামাজিক ইফতার অনুষ্ঠান এবং সেখানে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নেই। আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

অভিযোগদাতা হিসেবে নাম আসা মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন তার চাচা। তার কথায় তিনি অভিযোগপত্র জমা দেন। তিনি শুরুতে অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি বলেও জানান। এ ছাড়া অভিযোগ পত্রে বিএনপি নেতা মামুনের মোবাইল নাম্বারও দেয়া রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইফতার মাহফিল বন্ধের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কোনো অভিযোগ দেননি। বরং তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনের সভাপতি ইউসুফ রশীদ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং সংগঠন দখল করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, ইউসুফ নির্বাচিত কমিটির সদস্য নন এবং প্রবাসে অবস্থান করেও সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।

ইফতার আয়োজন ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল। তবে বিএনপির কোন গ্রুপ অনুষ্ঠান বন্ধে আপত্তি তুলেছে, তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।