ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

রূপগঞ্জের মহিলা মাদ্রাসায় ‘জ্বীন আতঙ্ক’, অসুস্থ বহু শিক্ষার্থী

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসায় কথিত ‘জ্বীনের আছর’কে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ১৫ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাদের হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ও কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে মাদ্রাসার এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে প্রলাপ বকতে শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন ছাত্রী একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হয়। একদিনেই সাতজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খালেদ হাসান মোরসাদ্দেক দাবি করেন, পাশের নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কবিরাজের মাধ্যমে ‘জ্বীন চালান’ করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তার ভাষ্য, অসুস্থ দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনো রোগ শনাক্ত হয়নি। পরে কোরআনের আয়াত পাঠের পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জ্বীন চালানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়াই উচিত। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে ঝাড়ফুঁক ও অন্যান্য অপচিকিৎসা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি বাড়ছে এবং অনেকে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, জ্বীন তাড়ানোর নামে অপচিকিৎসার অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাদল সাহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বা গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার কারণে ঘটতে পারে। তিনি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নূরে আলম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়ম বা অপচিকিৎসার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।