ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যৌথবাহিনীর অভিযানে দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিক।

এ সময় নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ রানাসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৭ জানুয়ারি সকালে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুরের নেতৃত্বে নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি টিম এবং রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ রানার সঙ্গে রায়পুরার চরাঞ্চলের ইউনিয়নসমূহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের নওয়াবপাড়া এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কতিপয় সন্ত্রাসী অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে সায়দাবাদ গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইকবাল ওরফে আকরাম (৩৫) এবং তার পিতা মো. জালাল উদ্দিনকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম হলো: ২টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১টি রামদা, ডেগার ২টি, ছুরি ৪টি, চাপাতি ২টি, কার্তুজ-৮টি, ৭.৬২ মিমি চায়না রাইফেলের ৫০ রাউন্ড গুলি, দেশীয় বোমা ৩টি, পটকা ২২টি, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ১টি, বন্দুকের কভার ২টি, বাটন মোবাইল ১৫টি, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট-৫টি, আইফোন ১টি, ম্যানিব্যাগ ১টি, এনআইডি কার্ড ১টি, ডেগার কভার ১টি।

এ ছাড়া বালুঘাটা গ্রামের আকবর আলী ওরফে ভেড়ার বাড়ির লাকি বেগমের কচু ঘরে বোমা কালামের আখড়ার সিলিং থেকে ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও ২টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবাল ওরফে আকরামের (৩৫) বিরুদ্ধে ৩টি হত্যা মামলা এবং ১টি অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। মো. জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২টি হত্যা মামলাসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে।

বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।