নরসিংদীর রায়পুরায় তুচ্ছ ঘটনায় মারধরের পর এসিড নিক্ষেপে তিন যুবক দগ্ধ হয়েছেন। এতে একজনের চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার পৌর শহরের হাসিমপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- শ্রীরামপুর এলাকার দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দ্বীপ রায় (১৯), একই এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে ওবায়দুল্লাহ (১৯) এবং রামনগরহাটি এলাকার কলিম মিয়ার ছেলে আহমেদ সেজান (১৮)।
গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
আহত ওবায়দুল্লাহর ভাই সোহান মিয়া জানান, দ্বীপ রায়ের সঙ্গে হাসিমপুর মৌলভীবাজারের লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের কর্মচারী উদয়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল।
বুধবার বিকেলে ওই দোকানে গেলে দ্বীপ ও উদয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উদয় ও একই দোকানের কর্মচারী সৌরভ তাকে মারধর করেন।
পরে খবর পেয়ে দ্বীপের বন্ধু ওবায়দুল্লাহ ও আহমেদ সেজান ঘটনাস্থলে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে দোকানে থাকা এসিড তাদের ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে দ্বীপের দুই চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তার দুই বন্ধুও দগ্ধ হন।
আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী উদয় ও সৌরভ দোকানে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানের মালিক কেশব রায়কে আটক করেছে রায়পুরা থানা পুলিশ।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের সঙ্গে এখনও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, দ্বীপ রায়ের চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের ঢামেক বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন