ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

পলাশে ব্যবসায়ী মণি হত্যাকাণ্ডের ৬ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল অপরাধীরা

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্ত্তী ওরফে মণি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৬ মাসেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি মূল অপরাধীরা। সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের স্পষ্ট উপস্থিতি থাকার পরও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে নিহত অসহায় পরিবারের।

মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির ফটকের সামনে শরৎ চক্রবর্ত্তী ওরফে মনিকে পেছন থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মনি চরসিন্দুর বাজারে বাবার মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) ভাড়া

দিতেন। ঘটনার দিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা ঘাতকরা তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেখানে শুটারের মুখটি কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।

নিহতের ভাই রনি চক্রবর্ত্তী বলেন, মামলার প্রধান আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী ব্যাবসায়িক

পার্টনার রাজেন্দ্র চৌহান রাজু, সোমা চৌহান, সাগর চৌহান ও শ্যামল চৌহান এই চারজনকে আসামি করে কোর্টে মামলা করলেও অজানা কারণে এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মনি হত্যাকাণ্ডের পরদিন কারো সাথে কোনো পরামর্শ না করে আমার ভাইয়ের ব্যাবসায়িক পার্টনার রাজেন্দ্র চৌহান বাবাকে থানায় নিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করায়।

পরবর্তীতে আলামত নষ্টসহ ব্যাবসায়িক হিসাব নিয়ে গড়িমসি করা এবং সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় আমরা ভাইয়ের (মনি চক্রবর্তী) ব্যাবসায়িক পার্টনার রাজেন্দ্র চৌহান ম্যানেজার সোমা চৌহান, বাড়ির কেয়ারটেকার সাগর চৌহান, শ্যামল চৌহানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে নতুন করে মামলা দায়ের করি।

মামলার তদন্তভার ডিবির ওপর ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তদন্তকার্যের তেমন কোনো অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমাদের পরিবার আতংকের মধ্যে দিনযাপন করছে। ভাই হত্যার বিচার আমরা কবে পাব কিংবা আদৌ পাব কি না জানি না।

সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের স্পষ্ট উপস্থিতি থাকার পরও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে আমাদের পরিবারের। নিহতের স্ত্রী অন্তরা মৌখার্জি ও বৃদ্ধ বাবা মদন চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে শুটার দেখা যাওয়ার পরও কেন তাকে ধরা হচ্ছে না? এবং মামলার প্রধান আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী রাজেন্দ্র চৌহান রাজু দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরছেন। তাকেসহ মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য ৬ মাস ধরে আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

আমরা আর কিছু চাই না, শুধু এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আর খুনিদের ফাঁসি চাই।

নিহতের মা গঙ্গা রানী চক্রবর্তীকে গিয়ে দেখা যায়, উঠানের মাঝখানে বসে বুক চাপড়ে কাঁদছেন। কোলে ছেলের ছবি। ও তো কাউকে কষ্ট দেয়নি, কেন আমার ছেলেকে মারল? আমি খুনিদের ফাঁসি চাই বলে অঝোরে কাঁদছেন।

চরসিন্দুর বাজার কমিটি সাধারণ সম্পাদক, আশরাফুল আলম ভূইয়া বলেন, আমাদের বাজারে শরৎ আর তার ভাই বাবার দোকানে ব্যবসা করত। খুব ভালো ছেলে ছিল। এমনভাবে মেরে ফেলবে ভাবিনি। আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এদিকে মনির ব্যাবসায়িক পার্টনার মামলার আসামি রাজেন্দ্র চৌহান বলেন, মনি আমার বন্ধু ছিল। কেন আমাকে আসামি করা হলো তা নিজেও জানি না। এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।