ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার কয়রাবিল ব্রিজ : ৮ গ্রামের মানুষের নিত্য দুর্ভোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা কয়রাবিল ব্রিজটি দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ আর তীব্র আতঙ্কের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত এই বিপজ্জনক ব্রিজে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাথে সীমান্তবর্তী সাতানি, বাঁশদাহা ও কাথন্ডাসহ অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রামের মানুষের কলারোয়া উপজেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই কয়রাবিল ব্রিজটি। প্রতিদিন এই ভাঙা ব্রিজ দিয়েই চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, গ্রামবাসী কোনো রকমে বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ ও মাটি ভরা বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে যাতায়াতের একটা ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হওয়ায় সেই অস্থায়ী সংস্কারও এখন অত্যন্ত নড়বড়ে ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা ভারী যানবাহনের চাপে যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরাধিক ধরে ব্রিজটির এই বেহাল দশা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, মাঠে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে কৃষক, ব্যবসায়ী, জরুরি সেবার রোগী এবং কর্মজীবীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রতিনিয়তই ব্রিজের ভাঙা অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন। দ্রুত এই সংকট নিরসনে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, পুরোনো এই ব্রিজটি এলজিইডি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। সেখানে একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।