দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হতে যাচ্ছে চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় শক্তিশালী মৌসুমী বৃষ্টিবলয় ‘ধারা’র প্রভাব। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী, এ সময় দেশের প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ অঞ্চল বৃষ্টির আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানায়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিবলয়টি প্রথমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় হবে। পরে ধীরে ধীরে এটি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে ৭ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
কোন এলাকায় বেশি বৃষ্টি?
বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে প্রায় সারা দেশেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব অঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা একরকম হবে না। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে। এসব এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা মিলতে পারে খুবই কম।
এ ছাড়া ঢাকা ও খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হতে পারে, যদিও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
এই বৃষ্টিবলয়ের কারণে দেশব্যাপী বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অতিবৃষ্টির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া টানা বর্ষণের কারণে সিলেট, ময়মনসিংহ, পার্বত্য বান্দরবান এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অনেক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
সমুদ্রে সতর্কতা
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময় বড় ধরনের কালবৈশাখী বা তীব্র ঝড়ের সম্ভাবনা নেই। তবে বৃষ্টির সঙ্গে মাঝেমধ্যে বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ এবং শক্তিশালী মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে।
কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব
টানা বৃষ্টির কারণে এই সময়ে দেশের কোথাও উল্লেখযোগ্য তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। ফলে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শীতল ও স্বস্তিদায়ক থাকবে। তবে খুলনা, রংপুর ও রাজশাহীর কিছু এলাকায় বৃষ্টি কমে গেলে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আষাঢ়-শ্রাবণের এই বৃষ্টিপাত আমন চাষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে দেশের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকায় আমন আবাদে সেচের প্রয়োজন স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

