ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নাটোরে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
নাটোরে সংবাদ সম্মেলনে জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। ছবি- সংগৃহীত

নাটোরে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নাটোর শহরের একটি রেস্তুরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাটোর জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ রনি বলেন, ‘সরকার এলপিজি গ্যাসের যে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে, সেই মূল্যে বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোম্পানির কাছ থেকে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ডিলারদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০৫ টাকায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সিলিন্ডার ডিলারের গোডাউনে পৌঁছাতে পরিবহন খরচসহ মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৩১৭ টাকা। এরপর গোডাউন থেকে জেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে সরবরাহ করতে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাবদ আরও ১৩ টাকা যুক্ত হলে প্রতিটি সিলিন্ডারের মোট কেনা দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩০ টাকা।’

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ডিলার পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডারের খরচ যেখানে ১ হাজার ৩৩০ টাকা, সেখানে সরকার ১২ কেজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে মাত্র ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত মূল্য ডিলারদের ক্রয়মূল্যের চেয়েও কম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করতে গেলে প্রতি সিলিন্ডারে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অপরদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রি করলে জরিমানার ঝুঁকিতে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় খুচরা দোকানে নতুন করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা দোকানে বর্তমানে যে সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, সেগুলো দোকানিরা বিক্রি করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান লাল, তারেক মোহাম্মদ ফয়সালসহ জেলার বিভিন্ন কোম্পানির পাইকারি গ্যাস ব্যবসায়ীরা।