ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিংড়ায় বিএনপি নেতা খুন, পাল্টা সহিংসতায় আ.লীগ নেতার মায়ের মৃত্যু

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় বিএনপি নেতা ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম (৫৩) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার জেরে এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নেতার মা। একই রাতে ঘটে যাওয়া দুই মৃত্যুর ঘটনায় সিংড়াজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রেজাউল করিমের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত রেজাউল করিম ওই এলাকার বাসিন্দা ছাবেদ আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি নাটোর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রেজাউল করিম প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে হাঁটতে বের হন। একা থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ বা জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের সমর্থকরা প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও বাড়ির ভেতরে আটকে পড়া ওহাব আলীর মা ছাবিহা বেগম (৮৭) আগুনে পুড়ে মারা যান।

নিহত রেজাউল করিমের ছেলে জানান, রাতে দীর্ঘ সময় বাবা বাড়ি না ফেরায় খোঁজ করতে বের হয়ে রাস্তায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রেজাউল করিমের স্ত্রী বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তিনি এই নির্মম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের বড় ভাই অভিযোগ করে বলেন, তার ভাই অত্যন্ত মানবিক মানুষ ছিলেন এবং নিজ অর্থায়নে এলাকায় একাধিক মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আব্দুল করিমের সঙ্গে তাদের সন্দেহজনক চলাফেরা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।

অগ্নিসংযোগে নিহত ছাবিহা বেগমের মেয়ে ও পুত্রবধূ জানান, হামলার সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও বৃদ্ধা ছাবিহা বেগম বের হতে না পারায় আগুনে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর জানান, ‘গলা কেটে একজনকে হত্যা এবং অগ্নিসংযোগে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’