ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাবেক সেনা সদস্যের জমি দখল, পরিবারকে অবরুদ্ধের অভিযোগ

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সারাজীবন দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করলেও নিজের জমি রক্ষা করতে পারছেন না সাবেক সেনা সদস্য জয়নাল আবেদীন ফৌজদার। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের এই সাবেক সেনা সদস্য অবসর নেওয়ার পর পৈত্রিক জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন।

কিন্তু হঠাৎ করে স্থানীয় প্রভাবশালী মাসুদ রানা মিঠুসহ তার বাহিনীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ জমি দখলের চেষ্টা এবং পরিবারের ওপর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের শুরুতে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে রোপন করা পেঁয়াজ ও ভুট্টা নষ্ট করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই পরিবারের সদস্যদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগী সাবেক সেনা সদস্য আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত উভয় পক্ষকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। পরে তিনি পুনরায় ওই জমিতে গম চাষ শুরু করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আবারও জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, ফলে তিনি জমিতে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

সর্বশেষ আদালত গত ১ এপ্রিল উভয় পক্ষকে মামলার রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত নিজ নিজ অবস্থানে থাকার এবং নতুন করে দখলের চেষ্টা না করার নির্দেশ দেন।

এরপরও অভিযুক্ত পক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বাঁশিলা গ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সেনা সদস্যের পরিবার চাষাবাদ করে আসছে।

কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানা মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদালতের নির্দেশে নোটিশ প্রদানকারী নলডাঙ্গা থানার এএসআই সোলায়মান আলী বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিরোধীয় সম্পত্তিতে যিনি যে অংশে ভোগদখলে আছেন, তিনি সেই অংশেই থাকবেন। নতুন করে কেউ দখল বা বেদখল করতে পারবে না।

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।