প্রতি বছরের মতো এবারও বোরো মৌসুমে ধান কাটতে নীলফামারীর কৃষি শ্রমিকরা ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। জেলার মাঠে ধান পাকতে এখনও অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। এই সময়টাতে বেকার বসে না থেকে তারা দলে দলে পাড়ি দিচ্ছেন বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সান্তাহার, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে।
শ্রমিকদের দেখা যায়, কাপড়ের ব্যাগে প্রয়োজনীয় সামগ্রী, কাস্তে, রশি ও ধান বহনের বাহুঙ্গা কাঁধে নিয়ে তারা যাত্রা করছেন।
শ্রমিকরা জানান, নিজ এলাকায় ধান পাকতে এখনও সময় বাকি থাকায় তারা আগাম ধান কাটার জন্য অন্য জেলায় যাচ্ছেন। সেখানে কয়েকদিন কাজ করে আয় করে আবার নিজ এলাকায় ফিরে এসে ধান কাটা-মাড়াই করবেন। চৈত্র-বৈশাখ মাসে এলাকায় কৃষিকাজ কম থাকায় অনেক শ্রমিকই কাজের অভাবে পড়েন। এ অবস্থায় কেউ কেউ ধারদেনা করে আগাম ধান কাটার জন্য বাইরে চলে যান। কয়েকদিন কাজ করে অর্থ উপার্জন করে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আবার ফিরে আসেন তারা।
সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক বেলাল মিয়া (৪৫) বলেন, ‘প্রতি বছর আগাম ধান কাটতে দলবেঁধে বাইরে যাই। এ বছরও পরিচিত কৃষকেরা ফোন দিয়েছেন। সংসারের খরচ ও কিস্তির টাকার যোগান দিতেই রওনা দিচ্ছি।’
পলাশবাড়ীর তরুনীবাড়ি এলাকার জসিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ধান পাকতে আরও সময় লাগবে। বগুড়ায় ধান কাটা শুরু হয়েছে, তাই সেখানে যাচ্ছি।’
ডোমার উপজেলার বামুনিয়া এলাকার এন্তাজুল আলী জানান, নাটোরের পরিচিত কৃষকেরা ধান কেটে দেওয়ার জন্য বারবার ফোন করছেন। তাই ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে সেখানে যাচ্ছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘এ অঞ্চলে কিছুটা দেরিতে রোপণ হওয়ায় ধান পাকতে সময় লাগে। প্রতি মৌসুমে জেলার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার কৃষি শ্রমিক ১৫-২০ দিনের জন্য বগুড়া, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় ধান কাটতে যান।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন