ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জন্ম থেকেই নেই পায়ুপথ, প্রতি নিঃশ্বাসে বাঁচার লড়াই ওমরের

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাত বছর বয়সী ওমর ফারুক জন্ম থেকেই পায়ুপথহীন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা তো দূরের কথা, প্রতিটি দিন কাটে তীব্র যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে দরিদ্র পরিবার তাদের গরু, আসবাবপত্রসহ সব সম্পদ বিক্রি করেছে। এখন আর কোনো সম্বল নেই।

নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের চুলডগি গ্রামের ছোট্ট একটি ঘরে প্রতিদিনই চলে বেঁচে থাকার লড়াই। দিনমজুর জয়নাল আবদীনের পরিবারে দারিদ্র্য যেন নিত্যসঙ্গী। তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে ওমর ফারুক।

জন্মের মাত্র তিন দিন পর হঠাৎ ওমরের পেট ফুলে যায়। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায়, জন্মগতভাবে তার পায়ুপথ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অ্যানোরেক্টাল এট্রেসিয়া’। ফলে প্রতিদিনই শিশুটি অস্বাভাবিক যন্ত্রণার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ওমরের মা রাবিয়া খাতুন বলেন, জন্মের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক অপারেশনের মাধ্যমে পেট কেটে সাময়িকভাবে মলত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। তবে তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

দ্বিতীয় ধাপের অপারেশনে সব সামর্থ্য শেষ হয়ে আমরা দিশাহারা হয়ে গিয়েছি। এখন শেষ ধাপের বড় একটি সার্জারি না হলে ওমরের জীবন আরও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। কিন্তু খরচ বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই। সন্তানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছি।

ওমরের বাবা জয়নাল আবদীন বলেন, আমার বাচ্চাটা সব সময় ব্যথায় থাকে। কষ্ট দেখে সহ্য করতে পারি না। চিকিৎসার খরচের সামর্থ্য আমাদের নেই। তিন সন্তানকে নিয়ে জীবন কিছুটা হলেও চলে, কিন্তু ছোট ছেলের চিকিৎসা আমাদের পুরো জীবনই ওলটপালট করে দিয়েছে।

ডাক্তাররা বলেছেন, বড় সার্জারি প্রয়োজন, খরচ পড়বে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এত টাকা জোগাড় করার কোনো উপায় নেই। সন্তানের জীবন বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও পরিবারটি কখনো ওমরকে অবহেলা করেনি। সামর্থ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত গিয়েই চিকিৎসা চালিয়েছে তারা। এখন আর কোনো উপায় না থাকায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্থানীয় কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ উল্যাহ সেলিম বলেন, শিশু ওমরের চিকিৎসায় শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছি। তবে ওমরের সার্জারি ব্যয়বহুল তাই তার চিকিৎসা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সমাজের সহৃদয়বানদের এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

শিশু ওমর ফারুক ফিরে পাক একটি সুস্থ জীবন—এটাই আজ জয়নাল আবদীনের পরিবারের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে সহৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই তাদের একমাত্র ভরসা।

আর্থিক সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: জয়নাল আবদীন, শিশু ওমর ফারুকের বাবা, বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৮৮৩৩৫৪৮২০, নগদ (পার্সোনাল): ০১৮৪৫৮৯৬৯৪৪।