পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আজ, যা মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। রমজান এবং জুমার সম্মিলনে এই দিনটি মুমিন-মুসলিমদের কাছে সীমাহীন মহিমাময়। এমনিতেই মুসলিমদের কাছে সপ্তাহের অন্য দিনের চেয়ে শুক্রবারের মর্যাদা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসা পবিত্র রমজান মাসের শুক্রবারগুলোর মর্যাদা আরও অধিকতর।
পবিত্র রমজানের শেষ জুমায় অংশ নিতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মসজিদে-মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে। রমজানকে বিদায় জানানোর এই শেষ জুমার দিনে অভিভাবকদের সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে এসেছে শিশু-কিশোররাও। এ সময় আগত মুসল্লিদের ‘আমিন-আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মসজিদ। আবার অনেক মুসল্লি আল্লাহর কাছে নিজেদের ক্ষমা প্রার্থনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) জুমার নামাজে মসজিদগুলো মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জুমার আজানের আগেই লোকজন মসজিদে আসতে শুরু করেন। নামাজ আদায়ের আগে খতিব ও আলেমগণ জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দেন।
এ ছাড়াও জুমার নামাজের আগে পবিত্র ঈদের দিনে করণীয় সম্পর্কে বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। পরে নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক মুসল্লি।
‘আল বিদা, আল বিদা, ইয়া শাহরু রমাদান।’ অর্থাৎ, বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। জুমাতুল বিদা রোজাদারদের স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানের শেষলগ্নে এর চেয়ে ভালো কোনো দিন আর পাওয়া যাবে না। আজকের জুমাতুল বিদা কার্যত রমজান মাসকে বিদায় জানানোর দিন। এ মাসে ক্ষমা প্রার্থনার বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা ভীত। এছাড়া এ মাসে আল্লাহর রহমত লাভের মহাসুযোগ রয়েছে। তাই শেষ সময় হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তারা উদগ্রীব।
নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে অনেককেই কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দরুদ পাঠ করতে দেখা যায়। অনেকেই নিজের পরিবার ও মৃত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দান-খয়রাত করেন। এছাড়া আজ শুক্রবার ৩০ রমজানও পূর্ণ হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে একযোগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশবাসী।


