ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘হাদিকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেভাবে ফয়সালকেও গুলি করা হোক’

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০২:৫১ পিএম
শুটার ফয়সাল ও তার চাছি। ছবি- সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের গ্রামের বাড়ি বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পর থেকে ফয়সাল ওই বাড়িতে আসেননি।

এদিকে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় ঘাতক ফয়সালের চাচি মিনারা বেগম বলেছেন, হাদিকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই ফয়সালকেও গুলি করা হোক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুটার ফয়সাল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন ২ নাম্বার ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবির ওরফে মালেক ও হাসি বেগম দম্পতির ছেলে।

ফয়সালের বাবা ও চাচারা ৫ ভাই। এর মধ্যে হুমায়ুন কবির চতুর্থ। গ্রামে ফয়সালের ছোট চাচা সেলিম হাওলাদার পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন। ওসমান হাদিকে গুলি করার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ফয়সালের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে অসন্তোষ ও বিরূপ সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা বলেন, ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির প্রায় ৪০ বছর আগে কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান। তার বৃদ্ধ বাবা-মা মারা যাওয়ার খবর পেয়েও গ্রামে আসেননি। কয়েক বছর আগে হুমায়ুন কবির পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করার জন্য এসেছিলেন। জমি বিক্রি করে আবার চলে যান। এখানে এখন তার ঘরবাড়ি কিছুই নেই। পৈতৃক ভিটায় ফয়সালের ছোট চাচা সেলিম হাওলাদার থাকেন এবং কৃষিকাজ করেন।

ফয়সালের চাচি ও সেলিম হাওলাদারের স্ত্রী মিনারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফয়সালকে জন্মের পর থেকে কখনো দেখিনি। তারা ঢাকায় বসবাস করেন। কোনো মায়ের সন্তানকে ফয়সাল গুলি করবে এটা মেনে নেব না। ওসমান হাদিকে যেভাবে ফয়সাল গুলি করেছে। ঠিক তাকেও সেভাবেই গুলি করা হোক।’

কেশবপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জাহিদ হোসেন বলেন, ‘হুমায়ুন কবির অনেক আগেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। ঢাকায় গিয়ে তিনি বিয়ে করেছেন। গ্রামের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।’

বাউফল থানার (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ফয়সালের স্থায়ী ঠিকানা উপজেলার কেশবপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে তেমন কিছু জানা যায়নি। অনেক বছর আগে তারা এলাকা ছেড়ে যায়। এখানে তাদের থাকার কোনো ঘর-দরজাও নেই। প্রায় ১ যুগ আগে পৈতৃক বসতঘরটিও ফয়সালের বাবা বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে ফয়সালের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের নজরদারি রয়েছে।’

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সেই গুলিতে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।