ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দশমিনায় প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি ও ব্রকলি চাষে সাড়া

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
দশমিনায় প্রথম রঙিন ফুলকপি ও ব্রকলি চাষে সাড়া। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

উপকূলীয় অঞ্চল দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি ও ব্রকলির পরীক্ষামূলক চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক সুলতান সরদার। 

উপজেলা কৃষি অফিসের এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় ১ বিঘা জমিতে বাস্তবায়িত এ সবজি প্রদর্শনী এখন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

উচ্চমূল্যের সাদা, হলুদ ও বেগুনি আভাযুক্ত রঙিন ফুলকপি এবং উন্নত জাতের ব্রকলি চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন সুলতান সরদার। মাঠজুড়ে সবজির সমারোহ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীরা। স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে এসব সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার বেশি বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

কৃষক সুলতান সরদার বলেন, প্রথমে একটু ভয় ছিল, কারণ আমাদের এলাকায় আগে কখনো রঙিন ফুলকপি চাষ হয়নি। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ, উন্নত বীজ ও পরিচর্যার নির্দেশনা অনুসরণ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আগামী মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাফর আহমেদ বলেন, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল ও উচ্চমূল্যের ফসল সম্প্রসারণে কাজ করছি। সুলতান সরদারের জমিটি একটি প্রদর্শনী প্লট হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যাতে অন্য কৃষকরা সরাসরি দেখে শিখতে পারেন। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম চাষেই ভালো ফলন ও বাজারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি চাষ সম্প্রসারিত হলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দশমিনার মাটিতে রঙিন ফুলকপি ও ব্রকলির এই সফল উদ্যোগ এখন সময়ের সেরা কৃষি উদ্ভাবন হিসেবে আলোচনায় এসেছে।