ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কাগজে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলেও বিদ্যুৎবঞ্চিত তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
কলাপাড়ায় শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালীর একাংশ, উত্তরচরপাড়া গ্রামের একাংশ ও ইসলামপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। অথচ সরকারি কাগজপত্রে ২০২১ সালেই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুদায়নের আওতায় দেখানো হয়েছে। চার বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে এসব পরিবার।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বহুবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছেন। আশ্বাস মিললেও সংযোগ মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে কারো কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাওয়ার রোডের কালভার্ট সংলগ্ন বাসিন্দা আবু ইউসুফ আকন জানান, তাদের বাড়িসহ অন্তত ১০টি পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন। প্রতিটি পরিবার থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও শুধু তিনটি খুঁটি বসানো হয়েছে, তার টানা হয়নি, সংযোগও দেওয়া হয়নি। ওই গ্রামে অন্তত ৫০টি পরিবার বিদ্যুৎবঞ্চিত বলে তিনি জানান।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে। আরামগঞ্জ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম জানায়, কেরোসিনের ল্যাম্প ও হ্যারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়। অনেকের সোলার প্যানেল থাকলেও তা প্রয়োজন মেটাতে পারে না। বর্ষাকালে চার্জ না থাকায় আরও ভোগান্তি বাড়ে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন জানায়, বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

গ্রামবাসীর প্রশ্ন, তারা কি এই দেশের নাগরিক নন? বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়েই ২০২১ সালে কীভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো—এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তাদের দাবি, দেশের মোট বিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কলাপাড়ায় উৎপাদিত হলেও স্থানীয় অনেক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, এই তিন গ্রাম ছাড়াও আরও পাঁচটি গ্রামের আংশিক কিছু পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। এসব এলাকায় নতুন করে প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্য উপজেলা ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়েছে।