পিরোজপুরে প্রবাসী শ্যালককে মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং স্ত্রীর বড় বোনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক মো. নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই শ্যালকের নাম মো. সাজ্জাদ শেখ এবং শ্যালিকার নাম মাফিয়া বেগম (বিনা)।
জানা গেছে, নাসির উদ্দীনের মেয়ের বিয়ের জন্য শ্যালক মো. সাজ্জাদ শেখের কাছ থেকে নগদ ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। পরবর্তীতে সাজ্জাদ শেখ বোন জামাই নামির উদ্দীনের কাছে ওই টাকা দাবি করলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। কলহের এক পর্যায়ে নাসির উদ্দীন শ্যালিকা মাফিয়া বেগমকে মারধর পর্যন্ত করেন।
শ্যালিকা মাফিয়া বেগম এসব অভিযোগে পিরোজপুর সদর থানায় গত বছরের ২ আগস্টে একটি অভিযোগ করেন। পরে স্থানীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা হয়েছে। এরপরও নাসির উদ্দীন শ্যালক সাজ্জাদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এরপর সাজ্জাদ শেখ পাওনা টাকা আদায়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৮ অক্টোবরে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে নাসির উদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো সাজ্জাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে তার বিরুদ্ধে গত ১৬ অক্টোবর আদালতে কাউন্টার মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সদর থানাকে দায়িত্ব দেন। এর কিছুদিন পর সাজ্জাদ তার কর্মস্থল সৌদি আরবে চলে গেলে সদর থানার এসআই মো. আব্দুর রহিম তড়িঘড়ি করে ৭ ডিসেম্বরে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমি সাজ্জাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি এবং মাফিয়া বেগমকেও মারধর করিনি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি আরও উল্টো সাজ্জাদের কাছে টাকা পাই।’
ভুক্তভোগী সাজ্জাদ শেখ জানান, ‘নাসির উদ্দীন আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে অস্বীকার করছেন। এজন্য আমি মামলা করেছি। আশা করি আদালত সবকিছু ভালোভাবে ফায়সালা করবে।’
শ্যালিকা মাফিয়া বেগম (বিনা) বলেন, ‘নাসির উদ্দীন মেয়ের বিয়ের সময় আমাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়েছে। সেগুলো না দিয়ে উল্টো আমাকে সে মারধর করেছে। মারধর করার সেই দাগগুলো এখনো আমার শরীরে আছে। সে আমার হাতও ভেঙে ফেলছিল। আমি এখনো অসুস্থতার কারণে ঠিক মতো হাঁটা-চলা করতে পারি না। সালিশির কথা বলেও সে আমাদের অপমান করেছে।’
সালিশিদার আলম মোল্লা বলেন, ‘আমার কাছে সাজ্জাদ এসে ঘটনা খুলে বলেছেন। আমি নাসির উদ্দীনকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে সে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন