× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

মাস্ক পরে বিশ্বরেকর্ড, গিনেস বুকে নাম লেখালেন মঠবাড়িয়ার সিফাত

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

সিফাত আকন

সিফাত আকন

চোখ বেঁধে মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে Guinness World Records-এ নাম লিখিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তরুণ সিফাত আকন (১৮)। তার এই অনন্য কৃতিত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে Guinness World Records কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ এপ্রিল ই-মেইলের মাধ্যমে তাকে এ স্বীকৃতির বিষয়টি জানানো হয়।

সিফাত আকন মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আবদুল জলিল একজন বনরক্ষী এবং মা বেগম সুরমা একজন গৃহিণী। সম্প্রতি তিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন।

জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে একটি পত্রিকায় বিশ্বরেকর্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়ে অনুপ্রাণিত হন সিফাত। এরপর থেকেই তিনি নিজেও এমন একটি রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা শুরু করেন। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, বাংলাদেশ থেকেও অনেকে Guinness World Records-এ নাম লিখিয়েছেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই শুরু হয় তার প্রস্তুতি।

করোনাকালে মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব থেকে ভিন্নধর্মী এই রেকর্ড গড়ার চিন্তা মাথায় আসে তার। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল এক ভারতীয় নাগরিকের দখলে, যার সময় ছিল ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ড। সিফাত সেই সময়কে ১ দশমিক ২২ সেকেন্ড কমিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিফাত আকন বলেন, 'এই সাফল্যের পেছনে প্রায় ৯ মাসের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস কাজ করেছে। শুরুতে যেখানে ২৫ থেকে ২৬ সেকেন্ড সময় লাগত, সেখানে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তা কমিয়ে ১০.৩২ সেকেন্ডে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই।'

তিনি আরও বলেন, 'সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় ইউটিউব, ফেসবুক এবং আগের রেকর্ডধারীদের ই-মেইল করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। মা ও বন্ধুদের সহযোগিতা না পেলে এটি সম্ভব হতো না।'

সিফাতের মা সুরমা বেগম বলেন, 'ছেলের এমন অর্জনে আমরা গর্বিত। অনুশীলনের সময় পরিবার থেকে সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছি। তার পরিশ্রমের ফল আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি।'

স্থানীয় ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, 'সিফাত আমাদের এলাকার সন্তান। অনেক অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। এটি শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে—এটাই প্রত্যাশা।'

বিশ্বরেকর্ড অর্জনের পর থেমে নেই সিফাত। তিনি বর্তমানে আরও দুটি নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর একটি হলো এক মিনিটে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আলিঙ্গন করা এবং অন্যটি এক মিনিটে দ্রুততম হ্যান্ডশেক করার রেকর্ড।

সিফাতের এই অর্জনে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!