পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সংবাদ সংগ্রহকালে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নাছরুল্লাহ আল-কাফী এবং নাগরিক প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আরিফ বিল্লাহর ওপর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আহত করার সাত দিন পার হলেও আসামিদের কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
উল্টো আহত সাংবাদিক নাছরুল্লাহ আল কাফীর মোবাইল ফোনে নিউজ করা হলো কেন এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছিলেন, তখন পাসে থাকা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বালিপাড়া ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ওরফে (কালাম সিকদার) ওই সাংবাদিকের ‘পায়ের নলি’ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই বিএনপি নেতা কালাম সিকদারের পক্ষে একটি নম্বর থেকে কল করে নিউজ না করার জন্য মোটা অংকের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা কালাম সিকদার বলেন, আমি ওকে কল দিইনি, হুমকি দেব কীভাবে।
এ বিষয়ে শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ইন্দুরকানী এফ করিম আলিম মাদ্রাসা মাঠে একটি জানাজা শেষে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কালাম সিকদারের সঙ্গে পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নাসির উদ্দীনের সাথে দেখা হলে, নাসির উদ্দীন কালাম সিকদারকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রকাশ্যে ওই সাংবাদিককে আবারও হুমকি দেয়। নাসির উদ্দীন বলেন, আমি জানাজা শেষে রাস্তায় বের হলে কালাম সিকদারকে দেখতে পেয়ে আহত সাংবাদিক নাছরুল্লাহ আল কাফীকে কেন পা ভাঙার হুমকি দিয়েছে- প্রশ্ন করলে কালাম সিকদার বলেন, ওকে হুমকি না দিয়ে ওর পা ভেঙে দেওয়া দরকার ছিল। ওকে পেলে পা ভেঙে দেব।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. আহসান কবির বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। হুমকির বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে পিরোজপুর শহরের টাউন ক্লাব সড়কে জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা একটি মানববন্ধন করেন। এ ছাড়া পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, ইন্দুরকানী প্রেসক্লাব, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখা ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ ছাড়াও একই দাবি করেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এর আগে, গত রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে সুপারি কেনাবেচা ও পরিবহন নিয়ে খবর সংগ্রহ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। একই সময়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির একটি সমাবেশ চলছিল। এ সময় সাংবাদিকরা সুপারি ট্রাকে তোলা এবং বাজারসংক্রান্ত ভিডিও ধারণ করছিলেন। সমাবেশে উপস্থিতি কম থাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মনে করে সাংবাদিকরা তাদের ফাঁকা চেয়ারের ছবি তুলছে- এমন সন্দেহে তারা অতর্কিতভাবে ওই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা স্ট্যান্ড, পেনড্রাইভ, প্রেসকার্ড, মানিব্যাগ ও তাদের সাথে থাকা কিছু টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে দুজনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে আহত আরিফ বিল্লাহর ভাই শরিফ বিল্লাহ বাদী হয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাসহ আটজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। ওই দুই সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়ায় বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার আসামিরা হলেন- চন্ডিপুর (খোলপটুয়া) গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম শেখ (৩৫), দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের হারুন মৃধার ছেলে ছাত্রদল নেতা ফাইজুল ইসলাম তাওহিদ মৃধা (২১), পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুল আউয়াল বেপারী এর ছেলে তানভীর আহমেদ রাকিব (২২), উত্তর কলারন গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. জুয়েল হাওলাদার (৪০), পশ্চিম কলারন গ্রামের আলি আকবার তালুকদারের ছেলে বিএনপিকর্মী শাহাদাৎ হোসেন হিরু তালুকদার (৪৮), পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামের মেনহাজের ছেলে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন (২৮), পচ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামর মৃত আলী আহমেদের ছেলে জমি দখল ও লুটপাটসহ একাধিক মামলার সাবেক আসামি বিএনপি নেতা আবু ছালেহ বেপারি (৫০) ও আল আমিন শেখ (৪২)সহ আরও অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন