ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে : বিজিবি

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পাচার রোধে কাজ করছে সংস্থাটি।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপোর সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লেফট্যানেন্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে কম দামে তেল সরবরাহ করায় এ ব্যবধান পাচারকারীদের আকৃষ্ট করে। এ কারণে বিজিবি কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকার বিওপিগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নৌপথে নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি স্থলপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ব্যারেল বা জার্কিনে করে তেল পাচার বন্ধ করা যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে (আইসিটি) আসা-যাওয়া করা ট্রাকের ট্যাংকারে তেলের পরিমাণও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

রাজশাহীতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২৫ মার্চ থেকে পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এসব স্থানে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিনটি ডিপো থেকে ৬৪টি পেট্রোল পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ১২টি পাম্প বিজিবির সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

এ ছাড়া, বিজিবির অধীনস্থ ১৬টি বিওপি থেকে সীমান্ত এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৯২টি বিশেষ টহল ও তল্লাশি অভিযান এবং ২২৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেলপুকুর ও রাজাবাড়ি চেকপোস্টে প্রায় ২,৫০০টি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

নৌপথেও স্পিডবোটের মাধ্যমে ২৫ মার্চ থেকে ৪৮টি টহল পরিচালনা করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও পাচার রোধে এ ধরনের নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।