রাজশাহী বিভাগের পাঁচ জেলায় শিশুদের জন্য তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তুলনামূলক বেশি সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনে ২৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এদিন ৫ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। টিকা নিতে মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।’
অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম. রাজিউল করিম বলেন, ‘৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌর এলাকায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব শিশু অন্তত ২৮ দিন আগে টিকা নিয়েছে, তাদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আবার টিকা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে জেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশুর মধ্যে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
আগামী তিন সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান, রাজশাহীর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাদাত রত্ন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম।



