ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রুয়েটে ক্যাশলেস পেমেন্ট বাস্তবায়নে ধীরগতি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্যাশলেস বা অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। ফলে রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি, ক্লিয়ারেন্স বা হল সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এখনো ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই প্রক্রিয়াকে তারা প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে ক্যাশলেস পেমেন্ট চালুর বিষয়টি অন্যতম হলেও, একাধিক আশ্বাসের পরও বাস্তব অগ্রগতি খুব সীমিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি রুয়েটের আইসিটি সেলের অধীনে থাকলেও জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কাজের গতি ধীর রয়েছে। এ বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিব জানান, পুরোনো সফটওয়্যার হালনাগাদ ও থার্ড-পার্টি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমানে ‘হল অটোমেশন’ সফটওয়্যার নিয়ে কাজ চলছে এবং এর পরীক্ষামূলক ধাপ সফল হলে অনলাইন পেমেন্ট চালুর পথ সুগম হবে।

অন্যদিকে, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ক্যাশলেস ক্যাম্পাস উদ্যোগের পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের অধীনে স্থাপত্য বিভাগের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর তথ্য রূপালী ব্যাংকের ‘রূপালী ক্যাশ’ অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে ধাপে ধাপে প্রায় ৭০০০ শিক্ষার্থীকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়নের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রায় দুই বছর পরও সীমিত পরিসরে অগ্রগতিকে তারা পর্যাপ্ত মনে করছেন না।

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিটি সেমিস্টারে ফি পরিশোধ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে। এমনকি স্বল্প অঙ্কের জরিমানাও পরিশোধ করতে একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

এ ছাড়া, অনলাইন পেমেন্ট চালু হলেও প্রিন্টেড কপি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় পুরোপুরি ডিজিটাল সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে কাগজনির্ভর জটিলতা এখনো রয়ে যাচ্ছে।

সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুয়েটের জন্য এটি এখন সময়োপযোগী প্রত্যাশা।